![]() |
| মানুষ গাঁজা ছাড়ছে। |
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে গাজা শহর থেকে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ ইসরায়েলের নতুন অভিযানের মুখে তাদের অস্থায়ী ঘর-বাড়ি ও আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলের আর্টিলারি, ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান আবারও গাজা শহরে হামলা চালায়। জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা জানান, নতুন নতুন বাস্তুচ্যুতির ঢেউ চলছে। এ সপ্তাহের শুরুতে নতুন হামলায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ গাজা থেকে পালিয়ে গেছে।
ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, গাজা শহর ছাড়ার নির্দেশের পর বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।
বৃহস্পতিবার গাজার উপকূলবর্তী সরু রাস্তাগুলোতে বহনযোগ্য পাত্র, কম্বল, তোশক, গ্যাস সিলিন্ডার, এমনকি পুরো পরিবারসহ গাড়িতে বোঝাই মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। দক্ষিণের দিকে ইসরায়েল-নির্ধারিত এলাকার উদ্দেশ্যে চলতে থাকে এই জনস্রোত।
ভাড়া আকাশচুম্বী, অনেককে হাঁটতেই হচ্ছে, বাচ্চা কোলে, মালপত্র হাতে। একটি পুরনো ট্রেইলারে দাঁড়িয়ে থাকা ইয়াসের সালেহ বলেন, “আমরা এখন সৈকতের দিকে যাচ্ছি। রাস্তায় ঘুমাতে হচ্ছে। খালি পায়ে হাটতে হচ্ছে। কোথায় যাবো জানি না।’
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গাজা শহর ‘হামাসের ঘাঁটি’ এবং ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ইতিমধ্যেই শহর ছেড়েছে। এই সংখ্যা ড্রোন নজরদারিসহ বিভিন্ন উৎসের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী এখন গাজা শহরের পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তারা শেইখ রাদওয়ান ও তেল আল-হাওয়া এলাকায় প্রবেশ করেছে। এখান থেকে তারা শহরের মধ্য ও পশ্চিম অংশে অগ্রসর হওয়ার অবস্থানে আছে। যেখানে এখনো বেশিরভাগ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
এক সময়ের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গাজা শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ধ্বংসস্তুপ। কয়েক সপ্তাহ আগেও এখানে ১০ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করতেন, যাদের অনেকেই ইতিপূর্বেও বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলা বা গুলিতে কমপক্ষে ৭৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার বেশিরভাগই গাজা শহরে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে, যখন হামাস ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ হত্যা করে, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়, যাদের মধ্যে এখনো ৪৭ জন গাজায় আটক এবং ইসরায়েল বলছে ২৫ জন মারা গেছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল যে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাতে কমপক্ষে ৬৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

0 Comments